যত খুশি পান করা যায় জমজমের পানি


জমজমের পানির কথা জেনে আসছি ছোটবেলা থেকে। হজ করতে এসে আত্মীয়স্বজন নিয়ে যাওয়ায় সেই পানি ভক্তিভরে পানও করেছি। কয়েক বছর ধরে পবিত্র হজ পালন করছি। হজের খবর সংগ্রহ করছি। এখানে এসে এবারও জমজমের পানি পান করেছি। যতবার পান করি ততবারই মনে হয়, এই প্রথম পান করছি। প্রাণ ভরে যায়, মনে প্রশান্তি আসে।


সব হজযাত্রীই মক্কায় এসে মসজিদুল হারামে (কাবা শরিফ) নামাজ আদায় করেন। জমজম কূপের পানি পান করেন। কাবা ঘরের কাছে হাজরে আসওয়াদের পূর্ব-দক্ষিণ কোণে এই জমজম কূপ। জনশ্রুতি আছে, হজরত হাজেরা (আ.) এবং শিশুপুত্র ইসমাইল (আ.)-কে কাবার পাশে বড় একটি গাছের ছায়ায় রেখে যান হজরত ইব্রাহিম (আ.)। তখন কাবা শরিফের স্থানটি ছিল উঁচু একটি টিলার মতো। তাঁদের দিয়ে যান কিছু খেজুর আর এক মশক পানি। পানি ফুরিয়ে গেলে হজরত হাজেরা (আ.) পানির জন্য কাবার সামনের দুই পাহাড় সাফা ও মারওয়ায় ছোটাছুটি করতে থাকেন। সাতবার ছোটাছুটির পর একটি আওয়াজ শুনে তিনি কাবার পাশে এসে দেখেন, চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে পানি। তিনি পানির উৎসের চারদিকে বালুর বাঁধ দেন। পরে খনন করে এই কূপকে আরও প্রশস্ত করেন হজরত ইব্রাহিম (আ.)।


দুনিয়ায় আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের যত অনুপম নিদর্শন আছে, তার মধ্যে জমজম কূপকে অন্যতম বলা হয়। এ পানি স্বচ্ছ, উৎকৃষ্ট, পবিত্র ও বরকতময়। জানা যায়, জমজম কূপ প্রথমে খোলা অবস্থায় ছিল। তখন কূপ থেকে বালতি দিয়ে পানি তোলা হতো। জমজমের মুখ থেকে ৪০ হাত গভীর পর্যন্ত কূপের চারপাশ প্লাস্টার করা। এর নিচে পাথরকাটা অংশ আছে আরও ২৯ হাত। এসব লাল পাথরের ফাঁক দিয়েই তিনটি প্রবাহ থেকে আসে পানি। একটি কাবার দিক থেকে, একটি সাফা পাহাড়ের দিক থেকে এবং আরেকটি মারওয়া পাহাড়ের দিক থেকে। সৌদি সরকার জমজম কূপ পরিষ্কার করিয়েছে কয়েকবার। পরিষ্কারের সময় ডুবুরিরা কূপ থেকে তুলে আনেন বালতি, মগ, মুদ্রা ও অন্যান্য জিনিসপত্র। তখনই মূলত এই পানি আসার দিকগুলো শনাক্ত করা হয়। এর ছবিও তুলে আনেন ডুবুরিরা।


হাজিদের জন্য এখানে মাটির নিচে জমজমের পানি পানের একটি স্থান তৈরি করেছে সৌদি আরব সরকার। কয়েক শ টেপ দিয়ে আধুনিকভাবে সাজানো কক্ষটির প্রবেশপথ ছিল কাবা থেকে অনেক দূরে সাফা পাহাড়ের কাছে। সেখানে জমজম কূপটির অবস্থান এবং পানি উত্তোলনের মোটর, পাইপ সবই দেখা যেত। ক্রমবর্ধমান ভিড়ের কারণে ২০০৩ সালে ওই কক্ষ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এখন আর কূপ দেখা যায় না। শুধু পানি পানের ব্যবস্থা করা আছে। এ ছাড়া কাবা শরিফের আশপাশেও টেপ ও ছোট ড্রামে জমজমের ঠান্ডা পানির ব্যবস্থা করা আছে। মদিনায় মসজিদে নববিতে প্রতিদিন গাড়ির মাধ্যমে এ পানি পৌঁছে দেওয়া হয়। জমজমের পানি যত খুশি পান করা যায়। কনটেইনারে ভরে আনতেও নিষেধ নেই। তবে এই পানি বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।


লেখকঃ ফেরদৌস ফয়সাল

mm

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *