পানি পান করা নিয়ে যত কথা

অনেকেই মনে করেন, যত বেশি সম্ভব পানি পান করলেই তা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। অনেকের আবার ধারণা দৈনিক আট গ্লাস পানি পান করা উচিত। বাস্তবে আপনার কতখানি পানি পান করা উচিত তা নিয়ে বিভ্রান্ত হয়েছেন কি?নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে বেশি পানি পান করা কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হয়েও দাঁড়াতে পারে। তবে দৈনিক আট গ্লাস বা নির্দিষ্ট একটি পরিমাণকে মাপকাঠি ধরে পানি পান করার মাত্রা নির্ণয়ের কোনো সুযোগ নেই বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।


এ বিষয়ে স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির এক্সারসাইজ সাইকোলজিস্ট ড. স্টেসি সিমস বলেন, ’এ সংখ্যাগুলোর পেছনে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রয়োগ হয়নি।’কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ’এ মাত্রার পেছনে লিঙ্গ, পরিবেশ, উচ্চতা, ফিটনেস লেভেল ইত্যাদি বিষয়, যেগুলো জলীয় মাত্রা গ্রহণের প্রভাবক হিসেবে কাজ করে সেগুলো বিবেচনা করা হয়নি।’তবে আপনার কতোখানি পানি পান করা উচিত? এক্ষেত্রে আপনার তৃষ্ণার ওপর নির্ভর করে থাকার কোনো সুযোগ নেই। কারণ আমাদের জিহ্বায় পানি লাগলেই তৃষ্ণার অনুভূতি কমতে থাকে। এখানে কতোখানি পানি প্রয়োজন, তা ভিন্নভাবে বুঝে নিতে হবে। আর এক্ষেত্রে যে সাতটি বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে তা হলো-

১. নির্ণয় করুন অতিরিক্ত জলীয় ভাবশরীরের অতিরিক্ত পানি পরিমাপের জন্য আপনার এক সপ্তাহের প্রতিদিন ওজন মাপতে হবে। আপনার ওজন যদি প্রতিদিন বেশ খানিকটাপরিবর্তিত হয় তাহলে জলীয় অংশ বেশি বলে ধরে নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে পানি পানের পরিমাণ সামান্য কমাতে পারেন।


২. লক্ষ্য করুন প্রস্রাব এমন একটি বস্তু, যা থেকে আপনার স্বাস্থ্যের অনেক বিষয় জানা যায়। সকালের প্রস্রাব হবে পর্যাপ্ত। এর রঙ হবে সামান্য গাঢ় বা পরিষ্কার। যদি তা না হয়, তাহলে বুঝতে হবে আপনার পানি খাওয়ার মাত্রায় পরিবর্তন প্রয়োজন।


৩. ঘুম থেকে ওঠার পর তৃষ্ণাসকালে ঘুম থেকে ওঠার পর যদি পিপাসা অনুভূত হয় তাহলে বুঝতে হবে আপনার পানি পানের পরিমাণ বাড়াতে হবে।


৪. লো সুগার পণ্যস্পোর্টস ড্রিংক্স বা অনুরূপ পণ্য কেনার সময় ’লো সুগার’ বেছে নিন। এমনকি নারিকেলের পানিতেও যথেষ্ট পরিমাণে চিনি ও পটাসিয়াম থাকে।


৫. কফি, চা, জলীয় ফল ও সবজিআপনার পানির চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে কফি, চা, জলীয় ফল ও সবজি। এক কাপ চা পান করলে তা শরীরে তেমন প্রভাব না ফেললেও আপনি যদি পাঁচ কাপ চা পান করেন, তাহলে তা নিশ্চয়ই শরীরের পানির চাহিদা অনেকখানি মেটাবে। এক্ষেত্রে বিষয়টি হিসাবে ধরতে হবে।


৬. ধীরে পান করুনঘুম মানে পানি পানে ছয় থেকে আট ঘণ্টার বিরতি। এজন্য যথাযথ পানি পান করে নিতে হবে। যদি একবারে তিন কাপ পানি পান করা সম্ভব না হয় তাহলে ধীরে ধীরে তা করতে পারেন।


৭. পানি ছাড়াও জলীয় বস্তু পানপ্রতিদিন বিকালে নিম্নমাত্রার ইলেক্ট্রোলাইট পানীয় পান হতে পারে আপনার জন্য স্বাস্থ্যকর। এ ছাড়াও গরম চা এক চিমটি লবন ও লেবু সহযোগে পান করা যেতে পারে। এতে আপনার দেহের তাপমাত্রা বাড়বে। এ পানীয়তে সামান্য পরিমাণ লবণ দেওয়া হলে তা দেহে গ্রহণ করা সহজ হয়ে যায়।


সৌজন্যেঃ সময়ের কন্ঠস্বর

mm

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *