ওয়াসার পানির শরবতে এমডি সাহেবের অনীহা

ঢাকা ওয়াসার কর্তৃপক্ষ বলেছে, ওয়াসার পানি বিশুদ্ধ। তবে ময়লা পানি যদি আসে তা পাইপলাইনে সমস্যার কারণে। কোথাও সমস্যা হলে তা ওয়াসার নজরে আনার আহ্বান জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

গত মঙ্গলবার বেলা একটায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ঢাকা ওয়াসার পরিচালক (কারিগরি) এ কে এম সহিদ উদ্দিন এ কথা বলেন।

রাজধানীর কয়েকজন বাসিন্দা প্রতিবাদ কর্মসূচি হিসেবে ওয়াসার পানির নমুনা ও সেই পানির শরবত ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাসকিম এ খানকে পান করানোর জন্য যান। তবে তাঁরা এমডির দেখা পাননি।

ওয়াসার এমডির প্রতিনিধি হয়ে এ কে এম সহিদ উদ্দিন কথা বলেন। তিনি বলেন, ওয়াসার পানি বিশুদ্ধ, পানিতে কোনো সমস্যা নেই। তবে কোথাও যদি ময়লা পানি আসে, তা পাইপলাইনের জন্য। সাংবাদিকেরা তখন জানতে চান, পাইপলাইন পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কার? ওয়াসার এই প্রতিনিধি জবাবে বলেন, সে দায় ওয়াসার। তাঁরা সব সময় জানতে পারেন না কোথায় কী সমস্যা আছে। তিনি নগরবাসীকে তা জানানোর অনুরোধ করেন।

১৭ এপ্রিল ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) গবেষণায় বলেছে, ঢাকা ওয়াসার পানির নিম্নমানের কারণে ৯৩ শতাংশ গ্রাহক বিভিন্ন পদ্ধতিতে পানি পানের উপযোগী করেন। এর মধ্যে ৯১ শতাংশ গ্রাহকই পানি ফুটিয়ে পান করেন। তবে টিআইবির এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খান বলেন, ওয়াসার পানি শতভাগ সুপেয়। তাঁর এ বক্তব্যের প্রতিবাদ করেছেন রাজধানীর কয়েকটি এলাকার বাসিন্দা।

জুরাইন ও পূর্ব রামপুরা থেকে পাঁচজন রাজধানীর কারওয়ান বাজারে আজ ওয়াসা ভবনের সামনে আসেন। এমডিকে শরবত পান করানোর জন্য কাচের জগে ও বোতলে ওয়াসার পানি, গ্লাস, লেবু ও চিনির প্যাকেট নিয়ে ওয়াসার ভবনের সামনে তাঁরা প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করেন। ওয়াসা ভবনের সামনে পুলিশ ও আনসার মোতায়েন করা হয়েছিল। প্রতিবাদকারীরা প্রথমে ঢুকতে চাইলে তাঁদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

প্রতিবাদকারীদের একজন জুরাইন নাগরিক অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদের সমন্বয়ক মিজানুর রহমান বলেন, ওয়াসার এমডিকে তাঁর বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়ে পদত্যাগ করতে হবে। এ ছাড়া পানির জন্য এত দিন যে বিল দিয়ে এসেছেন তা ফেরত দেওয়ার দাবি জানান এবং বলেন, বিশুদ্ধ পানি না দেওয়া পর্যন্ত তাঁরা পানির বিল দেবেন না।

সূত্রঃ প্রথম আলো

mm

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *