নিরাপদ পানি ব্যবস্থাপনা

 

মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর জন্য নিরাপদ পানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। নিরাপদ পানির সংস্থানের জন্য ইউনিয়ন পর্যায়ে নলকূপ স্থান নির্বাচন কমিটি আছে। এই কমিটি ইউনিয়ন পরিষদের আওতায় নিরাপদ পানি সরবরাহের ক্ষেত্রে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে।

 

নিরাপদ পানি কি?  

যে পানি ব্যবহার করলে শরীরের কোন ক্ষতি হয় না – সে পানিই নিরাপদ পানি। অথবা যে পানি পরিষ্কার ও স্বচ্ছ অথচ ময়লা,আবর্জনা,ক্ষতিকর খনিজ ও রাসায়নিক পদার্থমুক্ত এবং সর্বোপরি জীবানুমুক্ত সে পানিই নিরাপদ পানি।

 

নলকূপ স্থান নির্বাচন কমিটির কাজ 

 

  • ইউনিয়ন ভিত্তিক নলকূপ বরাদ্দ পাওয়ার পর এ কমিটি ৩০ দিনের মধ্যে নলকহপ বসানোর জায়গা ঠিক করে।
  • ঐ সময়ের মধ্যে জায়গা ঠিক করতে না পারলে কমিটি ইউএনও, উপ-সহকারী  প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য, সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে জায়গা ঠিক করেন।
  • এ প্রক্রিয়ায়ও যদি নলকূপ বসানোর জায়গা ঠিক না হয় তাহলে ঐ বরাদ্দ উপজেলার অন্য ইউনিয়নে পুনঃবরাদ্দ করা হয়।
  • নলকূপের জায়গা ঠিক করার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যকে জানানো হয়।

 

নলকূপ স্থাপনের জন্য নির্ধারিত সহায়ক চাঁদার পরিমাণ 

গ্রামীণ পানি সরবরাহ প্রকল্প স্বাস্থ্য উন্নয়ন ও পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন ধরনের নলকূপ বসানোর জন্য নির্ধারিত সহায়ক চাঁদা রয়েছে:- যথা

নলকূপের ধরণ অনুযায়ী চাঁদার পরিমাণ

নলকূপের ধরন টাকার পরিমাণ
অগভীর নলকূপ ১০০০ টাকা
গভীর নলকূপ ৪৫০০ টাকা
তারা নলকূপ ১৫০০ টাকা
এসএসটি/ভিএসএসটি ১০০০ টাকা
পিএসএফ ৩০০০ টাকা
রিং ওয়েল ২০০০ টাকা

 

আর্সেনিক নিয়ন্ত্রণ 

আর্সেনিক নিয়ন্ত্রণে ইউনিয়ন পর্যায়ে দু’টি কমিটি রয়েছে; ওয়ার্ড আর্সেনিক নিয়ন্ত্রণ কমিটি ও ইউনিয়ন আর্সেনিক নিয়ন্ত্রণ কমিটি। ওয়ার্ড আর্সেনিক নিয়ন্ত্রণ কমিটির কাজ-

  • আর্সেনিক আক্রান্ত নলকূপ জরিপ ও রোগী চিহ্নিত করার জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে জরিপ দল গঠন করে।
  • প্রতি ওয়ার্ডে এই জরিপ দলের প্রশিক্ষণ গ্রহণের স্থানীয় কর্মসূচি ও সময়কাল ঠিক করে।
  •  প্রশিক্ষণ শেষে নলকূপের পানি পরীক্ষা ও আর্সেনিক আক্রান্ত রোগী সনাক্তকরণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে।
  • আর্সেনিক দূষণ সম্পর্কে মানুষকে জানানোর কাজ করে।
  • প্রতিটি গ্রামে আর্সেনিক মুক্ত নিরাপদ পানি সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য গ্রামীণ পানি সরবরাহ সংগঠন গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করে।
  • সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়াদি।

 

ইউনিয়ন আর্সেনিক নিয়ন্ত্রণ কমিটির কাজ

 

  • প্রতিটি ওয়ার্ডে আর্সেনিক নিয়ন্ত্রণ কমিটি গঠন ও তদারক করে।
  • ওয়ার্ডভিত্তিক জরিপ কার্যক্রমের পরিকল্পনা তৈরি করে, সমন্বয় এবং যথাযথ বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করে।
  • আর্সেনিক সমস্যা মোকাবেলায় ওয়ার্ড কমিটিকে সার্বিক সহায়তা দেয়।
  • উপজেলা আর্সেনিক কমিটির সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে।
  • সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়াদি।

 

সচরাচর জিজ্ঞাসা 

প্রশ্ন ১:নিরাপদ পানি কি? 

উত্তর: যে পানি ব্যবহার করলে শরীরের কোন ক্ষতি হয় না – সে পানিই নিরাপদ পানি। অথবা যে পানি পরিষ্কার ও স্বচ্ছ অথচ ময়লা,আবর্জনা,ক্ষতিকর খনিজ ও রাসায়নিক পদার্থমুক্ত এবং সর্বোপরি জীবানুমুক্ত সে পানিই নিরাপদ পানি।

প্রশ্ন ২: নলকূপ স্থাপনের জায়গা ঠিক করে কোন কমিটি? 

উত্তর: নলকূপ স্থাপনের জায়গা ঠিক করে নলকূপ স্থান নির্বাচন কমিটি ।

প্রশ্ন ৩: আর্সেনিক নিয়ন্ত্রণে ইউনিয়ন পরিষদ কি দায়িত্ব পালন করে? 

উত্তর:প্রতিটি গ্রামে আর্সেনিক মুক্ত নিরাপদ পানি সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নয়নকল্পে গ্রামীণ পানি সরবরাহ সংগঠন গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ,আর্সেনিক আক্রান্ত নলকূপ ও রোগী সনাক্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ।

 


 

তথ্যসূত্র

ইউনিয়ন পরিষদ প্রশিক্ষণ ম্যানুয়েল (২০০৩), এ কে শামসুল হক ও কাজী মোঃ আফছার হোসেন ছাকী (সম্পাদিত), জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউট (এনআইএলজি), ২৯ আগারগাঁও, শেরে বাংলা নগর, ঢাকা-১২০৭।

মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর জন্য নিরাপদ পানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। নিরাপদ পানির সংস্থানের জন্য ইউনিয়ন পর্যায়ে নলকূপ স্থাপন নির্বাচন কমিটি আছে। এই কমিটি ইউনিয়ন পরিষদের আওতায় নিরাপদ পানি সরবরাহের ক্ষেত্রে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে।

mm

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *