বিপন্ন প্রাণী এবং এক ফোঁটা জল

পানির অপর নাম জীবন। পানি না হলে যে কিছুই হয় না। তৃষ্ণা পেলে আমরা গ্লাসের পর গ্লাস ঢক ঢক করে পানি খেয়ে ফেলি। গোসল করার সময় বালতির পর বালতি খরচ করি পানি। পানি ছাড়া আমাদের কোন কাজটি হয়? একটিও নয়। অথচ প্রকৃতিতে অনেক পতঙ্গশ্রেণি আছে, যারা এক ফোঁটা পানির জন্য কত কষ্টই না করে। হ্যাঁ, মাত্র এক ফোঁটা পানিও যে কত প্রাণীর কাছে বাঁচা-মরার ব্যাপার, তা আমরা বুঝতে পারি না। যেমন_ বোলতা। কচুপাতায় জমা হয়ে থাকা ওইটুকু পানি মুখে করে ঘরে ফিরে যায়। বোলতার কাছে তা-ই যথেষ্ট। তিন-চার ফোঁটা পানিতে তার সারা দিন চলে যায়।

মরুভূমিতে দিনের তাপমাত্রা কম করে হলেও ৫০-৫৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। পানির খুব অভাব সেখানে। বালির তলাটা অপেক্ষাকৃত ঠা-া এবং কিছুটা পানি-পানি ভাব থাকে বলে অনেক প্রাণী সেখানে আপাদমস্তক সেঁধিয়ে বসে থাকে। কারণ পানির অভাব। দক্ষিণ-পশ্চিম আমেরিকার মরুভূমিতে ‘ক্রিয়োজিট’ নামে এক ধরনের গাছ আছে যারা পানি শুষে নেয়ার জন্য মাটির নিচে তাদের সূক্ষ্ম শিকড়ের জাল ছড়িয়ে দেয়। ওদের এ রকম কারসাজিতে আশপাশে কোনো গাছ জন্মাতে পারে না।

মরুভূমিতে ‘বিটল’ নামে এক ধরনের পোকা আছে। বিটলরা জানে কীভাবে মরুভূমির বাষ্পকে পানিতে রূপান্তরিত করতে হয়। তাই এরা যেদিক থেকে বাতাস বয়, সেদিক পিঠ দিয়ে চুপচাপ বসে থাকে। এক সময় দেখা যায়, পিঠ বেয়ে নেমে যাচ্ছে পানির ধারা। ঘাড় বেয়ে পানির ফোঁটা চলে যাচ্ছে মুখে। এই কায়দা করে ওরা বেঁচে আছে। আফ্রিকার মরুভূমিতে আরেক ধরনের বিটল আছে যারা ভেজা বালির সামান্য পানির কণা দিয়ে তৃষ্ণা মেটায়। মাকড়সা তার শিকারের শরীরে যে সামান্য পানি থাকে তা দিয়ে তৃষ্ণা মেটায়। কখনই সরাসরি পানি খায় না মাকড়সা। খাবার-দাবারের সঙ্গে মিশে থাকা পানিই তাদের ভরসা। অ্যাফিড, চোষক, পোকা, বনঝিঁঝিঁ, লক্ষ্মাপোকা এ রকম অজস্র পতঙ্গশ্রেণির খাদ্য হলো গাছের রস। এদের ইঞ্জেকশনের সুচের মতো নল থাকে, তা-ই গাছের শরীরে ঢুকিয়ে দিয়ে টেনে নেয় রস। রসের সঙ্গে পতঙ্গের শরীরে জীবাণু ঢুকছে কিনা সেদিকে মোটেও খেয়াল নেই। পানি তো চাই। তাই এভাবে পানি খাওয়া।

অ্যাফিড পোকার গায়ে পিঁপড়ারা অনেক সময় সুড়সুড়ি দেয়। আর অমনি অ্যাফিড পিঁপড়াদের উপহার দেয় এক বিন্দু রস। পিঁপড়া ওই পেয়ে কী যে খুশি।

Facebook Comments
Share This Post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
4 Comments

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *