পানি সংকট ও সমাধান

বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। পুকুর, হাওর-বাওর, খালও কম নেই আমাদের শস্য শ্যামলা এই সবুজ বাংলায়। তবু সংকট রয়েছে সুপেয় পানির। এই সংকট বাড়ছে দেশের সবখানেই। বিশেষ করে উপকূলীয় ও পাহাড়ি অঞ্চলে তা প্রকট। আর মহানগরগুলোতে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় ঘনীভূত হচ্ছে এ সংকট। ফলপ্রসূ উন্নয়নে পানির কোনো বিকল্প নেই। পানির উৎস ও সেখান থেকে পাওয়া সুযোগ-সুবিধা দারিদ্র্য বিমোচনের ভিত্তিও তৈরি করে দেয়। জ্বালানি নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও পরিবেশের ভারসাম্য ঠিক রাখতে পানির গুরুত্ব অপরিসীম।

বিশ্বব্যাংকের এক গবেষণায় দেখা যায়, বাংলাদেশের জনসংখ্যার ২০ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় দুই কোটি ৮০ লাখ মানুষ পানির নাগালের বাইরে বসবাস করেন। বিশেষ করে চর, পাহাড়, উপকূলীয় ও হাওরাঞ্চলের লোকজন সবচেয়ে বেশি সুপেয় পানির সংকটে রয়েছেন। একটু গরম পড়লেই শহরে পানির জন্য হাহাকারও নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা। সংশ্লিষ্টরা বলছে, রাজধানীর পানির স্তুর দ্রুতই নিচে নেমে যাচ্ছে।

নগরবাসীর অতিরিক্ত পানির চাহিদা মেটাতে গিয়ে মূলত ঘটেছে এমনটা। স্বাভাবিকভাবে পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকে চুইয়ে ঢাকা শহরের ভূগর্ভস্থ পানির স্তুর ভরাট হয়। কিন্তু এসব জেলার ভূগর্ভস্থ সুপেয় পানিও কমে যাচ্ছে। পাশাপাশি সাগরের লোনা পানি এসে এতে জমা হচ্ছে। যদি ক্রমাগত এমন চলতে থাকে, তবে ভবিষ্যতে ঢাকা শহরের পানি খাওয়ার অযোগ্য হয়ে পড়বে। সম্প্রতি ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানে বাংলাদেশের পানি নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে পানি বিশেষজ্ঞ আইনুন নিশাত বলেন, বাংলাদেশে বৃষ্টিপাত প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।

গেল পাঁচ বছরে সেটা এমন পর্যায়ে চলে গেছে। এ ব্যাপারে কোনো ভবিষ্যদ্বাণীও করা যাচ্ছে না। পানিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধিসহ সৃষ্টি হচ্ছে হরেক সমস্যা। তিনি বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের পানিতে মানুষের সহ্য ক্ষমতার চেয়ে ১৫ শতাংশ গুণ বেশি লবণাক্ততা রয়েছে। অনাবৃষ্টি ও লবণাক্ততা প্রবণ এলাকায় কৃত্রিম পুকুরে বৃষ্টির পানি ধরে খাওয়ার চাহিদা মেটানো যেতে পারে বলে মনে করেন পানি বিজ্ঞানী আইনুন নিশাত।

Facebook Comments
Share This Post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *