যেসব কারণে পানি উপকারী

বিশেষজ্ঞদের মতে পানি পানের বিভিন্ন উপকারিতা সমূহঃ

• পানি পান শরীরের জন্য অত্যাবশ্যকঃ
জার্মানির রেমশাইড শহরের সানা ক্লিনিকের অন্ত্রবিদ আন্দ্রেয়াস লেওডোল্টার বলেন, রাতে ঘুমানোর কারণে একটা দীর্ঘ সময় হজম প্রক্রিয়ার তেমন কোনো কাজ থাকে না৷ তাই প্রতিদিন সকালে নাস্তার আগে খালি পেটে এক গ্লাস পানি খেলে মাংসপেশী ও কোষ গঠনের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয় এবং এর মাধ্যমে রক্তের দূষিত পদার্থ বের হয়ে যায়।

• ওজন কমাতে পানিঃ
বার্লিনের ডাক্তার মিশায়েল বসমানের জরিপে দেখা গেছে, পানি পান করলে শরীরের শক্তি বাড়ে৷ প্রতিদিন অন্তত ৮ থেকে ১৮ গ্লাস পানি পান করলে তা ঘাম অথবা মূত্রের মাধ্যমে বেরিয়ে যায়৷ প্রচুর পানি পানের ফলে শরীরের বাড়তি চর্বি গলে শরীর থেকে অতিরিক্ত ওজন ঝড়ে পড়ে।

• নিজেকে সুন্দর রাখতে পানির ভূমিকাঃ
পানি পান ত্বক সুন্দর ও উজ্জ্বল করতেও সাহায্য করে৷ এর ফলে শরীরের ভেতরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো সজীব ও প্রাণবন্ত হয় এবং ত্বক হয়ে উঠে মসৃণ ও সুন্দর৷ পানি ত্বকের পিএইচ ভারসাম্য বজায় রাখে৷ পানির কারণে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সক্রিয় থাকে৷ তবে কিডনি, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা পানি পানের পরিমাণ নির্দিষ্ট করে দিতে পারেন।

• সকালে পানি পান করুনঃ
সকালে ঘুম থেকে উঠেই পানি পান করুন৷ দেখবেন শীত, গ্রীষ্ম অর্থাৎ সারা বছরই ভালো কাটবে৷ এতে মাথাব্যথা, কিডনি সমস্যা, গ্যাস্ট্রাইটিস, কোষ্ঠকাঠিন্য, উচ্চ রক্তচাপ, মেয়েলি রোগজনিত সমস্যাগুলো থেকে রেহাই পাওয়া যায়৷ পানি পানের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই৷ অর্থাৎ পানিকে ওষুধ হিসেবে ধরা যায়৷পানি পানের অভ্যাস ছোটবেলা থেকেই করা ভালো।

• খেলোয়াড়দের শরীরে পানির প্রয়োজন বেশিঃ
ফ্রাংকফুর্টের ইয়োহান ভল্ফগাং গ্যোয়েটে বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলাধুলা বিষয়ক চিকিৎসক ভিনফ্রেড ভানৎসার বলেন, খেলোয়াড়দের পিপাসা না লাগার আগেই পানি পান করা উচিত৷ কারণ এতে শরীরে পানির ভারসাম্য ঠিক থাকবে অর্থাৎ ভেতর থেকে শরীর শুকিয়ে যাবেনা৷ তবে খেলার সময় শুধুমাত্র গলা ভেজানোর জন্য সামান্য পানি পান করা যেতে পারে৷ এছাড়া সব বয়সের মানুষের শরীরের জন্য যথেষ্ট পানি প্রয়োজন৷

• মাথাব্যাথা সারতে সাহায্য করেঃ
যারা মাইগ্রেনের সমস্যায় ভোগেন, তাদের জন্য পানি ওষুধের ভূমিকা পালন করে৷ পানিশূন্যতা মাইগ্রেনের অন্যতম কারণ, তাই মাইগ্রেনকে দূরে রাখতে বেশি বেশি পানি পানের অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত।
• কিডনি সমস্যায় পানিঃ
কিডনির কার্যকারিতা স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান করা প্রয়োজন৷ সকালে খালি পেটে এক গ্লাস পানি পান এক ধরণের আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা, যা হাঁপানি এবং বিভিন্ন ব্যথার ঝুঁকিও কমিয়ে দেয়৷ পানির বদলে কোকা কোলা, ফান্টা বা চিনি মিশ্রিত পানীয় না খাওয়াই শরীরের জন্য ভালো।

তথ্যসূত্রঃ ডয়চে ভেলে

Facebook Comments
Share This Post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *