পানির অভাব এবং চাহিদা

ঢাকা শহরে প্রতিদিন পানির ঘাটতি প্রায় অর্ধশত কোটি লিটার। ওয়াসার ১৩ শতাংশ পানি নদী থেকে সংগ্রহ করলেও বাকিটা গভীর নলকূপের। ভূগর্গস্থ পানির স্তর নিচে নামার অন্যতম কারণ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, এতে ভূমিধসের মতো ঘটনা ঘটতে পারে। আর পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা তো আছেই। এদিকে শহরের ৭০ভাগ মানুষই দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাস করে। তাদের জন্যে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের কোনো ব্যবস্থা নেই।

আর জলাবদ্ধতার সমস্যা তো রয়েছেই। সামান্য বৃষ্টি হলেই হাঁটু পানি জমে ঢাকার রাস্তা-ঘাটে। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, জলাধারগুলো ভরাট করায় রাজধানীতে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই এ ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে দেশের ৫৯ জেলার নলকূপের পানিতে আর্সেনিক দূষণ রয়েছে বলে এক গবেষণায় বলা হয়েছে।

২০১০ সালের মার্চে ‘পশ্চিমাদের দ্বারা কিভাবে বাংলাদেশ দূষিত হচ্ছে’ শিরোনামের এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেন্ডেন্ট। এতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক তহবিল নিয়ে প্রায় চার দশক ধরে বাংলাদেশের গ্রাম-গঞ্জে নলকূপ বসানো হয়েছে। এটাও দেশের মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকির জন্যে ব্যাপকভাবে দায়ী।

দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ এখন ক্যানসার ও হৃদরোগের ঝুঁকিতে রয়েছেন। দূষিত পানি পান করে মানসিক বিকলাঙ্গতা সৃষ্টি হচ্ছে অনেক শিশুর। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশে আর্সেনিক দূষণ শুরু হয় সত্তরের দশকে। তখন খাবার পানির মানোন্নয়ন ও ডায়রিয়া প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক সহায়তায় ব্যাপকভাবে নলকূপ স্থাপন করা হয়।

এতে ধারণা করা হচ্ছিল, লোকজন নিরাপদ সুপেয় পানি পাবে। কিন্তু আর্সেনিকের কারণে তা আর হয়ে উঠে নি। ইউনিসেফ বলছে, বাংলাদেশের দুই কোটি ছয় লাখ মানুষ নিরাপদ পানি সুবিধার আওতার বাইরে। নিরাপদ উৎস থেকে পানি সংগ্রহের সুযোগ নেই- এমন দশটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ একটি। যেসব দেশে বেশিরভাগ পানির উৎস অনিরাপদ, সেই সব দেশে পৃথিবীর প্রায় দুই তৃতীয়াংশ লোক বসবাস করে জানায় সংস্থাটি।

Facebook Comments
Share This Post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *