পানির অপচয় রোধ

পানি নিয়ে ভাবনা, আর না- এমন একটি বিজ্ঞাপন অনেক দিন টেলিভিশনে প্রচারিত হয়েছে। বাসার টেপে হঠাৎ পানি আসছে না, সেচের পাম্প হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে- এ ধরনের চিত্র দেখানোর পর সমস্যার সমাধান দেওয়া হয়েছে এভাবে- মাটির নিচ থেকে বিশেষ ধরনের পানি তোলার মেশিন ব্যবহার করতে হবে।
 
বাংলাদেশকে বলা হয় পানির দেশ। বৃষ্টি হয় প্রচুর। নদনদী-খালবিল আছে দেশের প্রায় সর্বত্র। উত্তরাঞ্চলের কিছু জেলায় খালবিল কিছুটা কম, কিন্তু প্রমত্ত ব্রহ্মপুত্র, যমুনা ও পদ্মা নদী প্রবাহিত হয় এ অঞ্চল থেকেই। এর পরও কিন্তু বাংলাদেশ মিঠা পানি নিয়ে উদ্বিগ্ন। মাটির নিচের পানির স্তর নেমে যাচ্ছে। অনেক নদনদী শুকিয়ে যাচ্ছে। গভীর নলকূপ দিয়ে যথেচ্ছ পানি তোলার কারণে ভূমিধসের শঙ্কা রয়েছে। আমরা প্রচণ্ড খরার কবলে এখনও পড়িনি বটে; তবে এমনটি হতেই পারে।
 
বাংলাদেশে যদি হোটেল কিংবা বাসাবাড়িতে পানির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হয়, তাহলে কী প্রতিক্রিয়া হতে পারে? বিদ্যুতের ব্যবহারের ওপর এক ধরনের পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে- যত বেশি ব্যবহার করা হবে, ইউনিটপ্রতি রেট তত বাড়তে থাকবে। এটা অনেকটা আয়করের মতো- যত বেশি আয়, রেট তত বাড়তে থাকবে। উন্নত বিশ্বের কোথাও কোথাও তো অনেকের আয়ের অর্ধেক বা তারও বেশি আয়কর বিভাগ কেটে নেয়।
 
বাংলাদেশে যদি পানির রেশনিংয়ের কথা বলা হয়? যদি বলা হয়, । গাড়ি ধোয়া অথবা বাড়ির লনের সবুজ ঘাসে পানি দেওয়া কিংবা ফুলের বাগান ও ছাদ কৃষি করার জন্য ওয়াসার পানি ব্যবহার করা যাবে না। কেউ বলতে পারেন, আমি বেশি ব্যবহার করব এবং বিল পরিশোধ করব। সরকারের কাজ হচ্ছে, পানির সরবরাহ নিশ্চিত করা। কিন্তু পাইপলাইনে পানি সরবরাহের সমস্যার বিষয়টি বাদ দিলেও কেবল পরিবেশের কথা চিন্তা করলে আমরা মাটির নিচ থেকে ইচ্ছামতো পানি তুলতে পারি না। এ কারণেই আমাদের ধান ও অন্যান্য ফসল উৎপাদনে সেচের পানি যতটা সম্ভব কম ব্যবহারের কথা বলা হচ্ছে। অনেক দেশে বৃষ্টির পানি ধরে রেখে তার ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশে আপাতত এমন প্রস্তাব খুব একটা গ্রহণযোগ্য হবে বলে মনে হয় না। কেউ কেউ বিষয়টি মানবাধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে গণ্য করতে প্রচার চালালেও বিস্ময়ের কিছু থাকবে না।
Facebook Comments
Share This Post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *