জলবায়ু পরিবর্তন ও ঝুঁকি

১৮৮০ থেকে ২০১২ পর্যন্ত সময়ে মোট ১৩২ বছরে পৃথিবীর স্থলভাগ এবং সমুদ্রের উপরিভাগের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে ০.৬৫ থেকে ১.০৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস। আর গত ১৫ বছরে সমুদ্রের উপরিভাগের এ তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে ০.০৫ থেকে ০.১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ১৫ বছরের এ তাপমাত্রা বৃদ্ধির হারকে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা। ফলশ্রুতিতে পৃথিবীতে এল নিনোর প্রভাব দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের জলবায়ু গবেষণা সংস্থা ইন্টার গভর্মেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি)।

বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের নির্মম শিকার। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগের ফলে প্রতি প্রতিবছর বাংলাদেশকে তার জিডিপির ১ ভাগ ক্ষতিপূরণ দিতে হচ্ছে। বাংলাদেশের মতো একটি দরিদ্র দেশের জন্য এটি ভয়ানক পরিস্থিতি। আমাদের মত উন্নয়নশীল দেশগুলো কার্বন নিঃসরণের জন্য দায়ী নয়। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনজনিত খেসারত আমাদের মতো দেশগুলোকেই সবচেয়ে বেশি মাত্রায় দিতে হচ্ছে।

১৯৮৩-২০১২ এই ত্রিশ বছরে উত্তর গোলার্ধ গত ১৪০০ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা ধারণ করেছে। এর ফলে আর্কটিকের বরফ গলা সবচেয়ে বেশি মাত্রায় বৃদ্ধি পাচ্ছে। সমুদ্রের উপরিভাগ স্থলভাগের প্রায় সমান উত্তপ্ত হওয়ায় ১৯৭১ থেকে ২০১০ পর্যন্ত জলবায়ু সিস্টেমের ৯০ ভাগ শক্তি জমা হয়।এছাড়া গ্রীনল্যান্ড এবং এন্টার্টিকার বরফ যে কোন সময়ের তুলনায় এখন সবচেয়ে বেশি মাত্রায় গলে যাচ্ছে।

এর ফলে সমুদ্র উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ১৯০১-২০১০ সাল পর্যন্ত যায়। বিশ্বব্যাপি সমুদ্রের গড় উচ্চতা ০.১৭ থেকে ০.২১ মিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। শিল্প বিপ্লব থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত কার্বন নিঃসরণের মাত্রা ৪০ ভাগ বৃদ্ধি পায়। এই ৪০ ভাগের মধ্যে ৩০ ভাগ সমুদ্র শুষে নেয়। এর ফলে সমুদ্রের এসিডিটি’র মাত্রা বেড়ে যায়।

Facebook Comments
Share This Post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *