জনস্বাস্থ্যের হুমকি অনুনোমোদিত জারের পানি থেকে দূরে থাকুন

বিশুদ্ধ পানির চাহিদা পূরণে ব্যবহার হচ্ছে নীল জার,ক্যান ও বোতলজাত পানি। তবে এসব বোতলজাত পানি কতটা নিরাপদ তা নিয়েই যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে। অনেক অবৈধ প্রতিষ্ঠান অনুমোদন ছাড়াই পানি বোতলজাত করে বাজারজাত করছে। কিন্তু বোতলজাত করার সঠিক কোন নিয়ম তারা অনুসরণ করছে না। যার ফলে তাদের উৎপাদিত পানিতে পাওয়া যায় বিভিন্ন ময়লা ও জীবাণু। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রেক্ষিতে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশেই বোতলজাত ও জারজাত পানির একটি বড় বাজার সৃষ্টি হয়েছে। বিশুদ্ধ পানির চাহিদা পূরণে বেশিরভাগ মানুষ এখন বোতলজাত পানির ওপর নির্ভরশীল। আর এই সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা জার, ক্যান ও বোতলে কলের খোলা পানি বাজারে বিক্রি করছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, বেশিরভাগ এলাকায় পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান যে পানি সরবরাহ করে, তা সরাসরি পান করা ঝুঁকিপূর্ণ। এমনকি ফুটিয়ে, ফিল্টার করেও গন্ধমুক্ত পানের উপযোগী করা যায় না। সারাদেশে নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠান ছাড়া বাকিরা জারে যে পানি বিক্রি করে তার বেশিরভাগই বিশুদ্ধ নয়। অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যবসার নামে পানি সঠিক উপায়ে শোধন না করেই সরাসরি বোতলজাত করে বিক্রি করছেন। তাছাড়া জার জীবাণুমুক্ত করতে হাইড্রোজেন পার অক্সিসাইড ব্যবহার বাধ্যতামূলক হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই পদার্থের কোন ব্যবহার করা হয় না। এছাড়া জারে পানি রিফিল করার সময় ফিলিং মেশিন ব্যবহার করার কথা থাকলেও শুধু ফিল্টার ব্যবহার করে পানি ভর্তি করা হচ্ছে জারে।

পানি বিশুদ্ধকরণের অন্যতম সহজ পদ্ধতি ফুটিয়ে পান করা। কিন্তু পানি ফোটানোর সঠিক পদ্ধতি সবার জানা থাকে না। নিয়ম না মেনে পানি ফোটানো হলেও তার কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যায়। আমেরিকার সরকারী পরিবেশ সংরক্ষণ এজেন্সির (ইউএসইপিএ) মতে, ফিল্টারকৃত থিতানো পানি ১ মিনিট ধরে পূর্ণমাত্রায় ফুটালেই কাজ হবে। অর্থাৎ অপেক্ষাকৃত পরিষ্কার পানির জন্য ১ মিনিট টগবগ করে ফুটানোই যথেষ্ট। এ জন্য পানি বিশুদ্ধ করণের ক্ষেত্রে অবশ্যই সতর্ক পদ্ধতি অবলম্বন করা উচিত। এ ক্ষেত্রে উন্নত শোধনযন্ত্রের সাহায্যে পানি বিশুদ্ধ করেও পান করা যেতে পারে।

Facebook Comments
Share This Post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *