উষ্ণতা বৃদ্ধি এবং এন্টার্কটিকার বরফ

এন্টার্কটিকায় জমে থাকা বরফ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে গেলে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে সবচেয়ে বেশি। জমে থাকা বরফ ইতোমধ্যে গলতে শুরু করেছে। এ বরফ আরও অধিকহারে গললে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে যাবে পাঁচ মিটার অর্থাৎ প্রায় ১৬ ফুট। ফলে সাগরে হারিয়ে যাবে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কম উচ্চতাসম্পন্ন বহু দেশ। বিশেষ করে মহাদেশীয় এলাকাতে অবস্থিত ক্ষুদ্র দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোর আর কোন অস্তিত্ব থাকবে না।

গত পঞ্চাশ বছরে এন্টার্কটিকার তাপমাত্রা বেড়েছে গড়ে ৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস, যা পৃথিবীর অন্যান্য অংশের তুলনায় ৬ গুণ বেশি। প্রাক-শিল্পযুগের তুলনায় বর্তমানে ০.৮ ডিগ্রী বেশি হারে পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ছে। কিন্তু এন্টার্কটিকায় বেড়েছে আরও বেশি হারে। এর কারণ হচ্ছে বরফ গলার কারণে সমুদ্রের পানি অনেক বেশি হারে তাপ শোষণ করছে। ফলে এন্টার্কটিকায় বেশি হারে তাপমাত্রা বাড়ছে। আর বরফ গলার হার ক্রমাগত হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটা অব্যাহত থাকলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যাবে, যা বিশ্ববাসীর জন্য একটি ভয়ানক বার্তা।

এন্টার্কটিকার বরফ পুরোপুরি গলে গেলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৬৫ মিটার বা ২০০ ফুট পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। তখন পৃথিবীর দেশগুলোর কি ভয়াবহ অবস্থা দাঁড়াবে তা সহজেই অনুমেয়।

Facebook Comments
Share This Post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *